নিজস্ব প্রতিবেদক:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যেতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার দৃশ্যমান তৎপরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যাত্রীদের কাছে তিনি পরিচিতি পান ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে।
তবে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো দেখা না যাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তাকে বিমানবন্দর থেকে বদলি করা হয়েছে—এমন তথ্যও ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তখনও তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।
নওশাদ খান ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে নজরদারি এবং বিমানবন্দরের কর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মতো পদক্ষেপের কারণে যাত্রী ও প্রবাসীদের মধ্যে তার পরিচিতি বাড়ে।
বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে স্থাপন করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়।
এ কারণে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই আলোচনায় আসত নওশাদ খানের নাম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও লাগেজ পেতে দেরি, দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলির সংকটসহ বিভিন্ন ভোগান্তির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আসছে।
সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনার ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর শেয়ার করে জানতে চান, তিনি এখন কোথায়। কেউ কেউ তাকে আবারও বিমানবন্দরে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
নিজের বর্তমান দায়িত্ব সম্পর্কে নওশাদ খান বলেন, “আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর অনলাইনে দেখছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে কম দেখা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।”
বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নওশাদ খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে বলব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।”